সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ইমরান খানের দুই বোন ডা. উজমা খান ও নুরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। এর একদিন আগে, গত রোববার একই আইনের অধীনে আটক করা হয় তাদের আরেক বোন আলিমা খানকে। লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের আদেশে বলা হয়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে পিটিআই কর্মীদের সংগঠিত করছিলেন এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মে'র সহিংস বিক্ষোভে উসকানি ও সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিন বোনকেই লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে রাখা হয়েছে।
পরিবার ও পিটিআই-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া
তিন বোনকে আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিটিআই। দলটির তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে জানান, আটক করার সময় উজমা ও নুরিনের সঙ্গে তাঁদের সন্তানদেরও সাঁজোয়া গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই বাড়িতে বল প্রয়োগ করে ঢুকে স্বজনদের তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের অবস্থান
পিটিআই জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়েই তাদের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট করেছেন, আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ কিংবা জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটানোর কোনো সুযোগ দেবে না সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, শুরু থেকেই এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করে আসছেন তিনি। (সূত্র: ডন, ফ্রান্স ২৪, এএফপি)