মার্কিন হামলায় তেহরানকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফেরানো কিংবা পূর্বে হওয়া সমঝোতা স্মারক রক্ষা—কোনোটিই যখন কাজে আসছে না, তখন বিকল্পহীন এক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে হোয়াইট হাউস।
একদিকে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজের চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুত কমছে এবং বাড়ছে পণ্যের দাম, অন্যদিকে ইউরোপের অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান নীতি ও জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এই সংকট উত্তরণে মার্কিন থিংক ট্যাংক ও বিশ্লেষকরা নতুন কিছু কূটনৈতিক ধারণার কথা বলছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা। ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে চলা পরোক্ষ আলোচনায় প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ না রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য নামমাত্র একটি ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ বা ‘হরমুজ ফি’ চালুর একটি উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে।
মালাক্কা প্রণালির আদলে প্রণীত এই মডেলে পারস্য উপসাগরীয় তীরবর্তী দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি সংস্থা গঠন করা যেতে পারে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ইরান যেমন নিজেদের জয় ও কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে পারবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও কৌশলগত পরাজয় এড়াতে সক্ষম হবে। তবে এই ধরনের কোনো চুক্তির জন্য নিষেধাজ্ঞাপ্রত্যাহার এবং ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত থাকতে পারে।
প্রণালির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের একক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের ট্রান্স আটলান্টিক জোটে টানাপোড়েনের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সহজে এগিয়ে আসছে না।
তাছাড়া ট্রাম্পের অনিয়মিত পররাষ্ট্রনীতির কারণে তেহরান বা ইউরোপীয় রাজধানীগুলো মার্কিন অভিপ্রায়ের ওপর পুরোপুরি আস্থায় রাখতে পারছে না। তবে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সংকীর্ণ বিকল্প এবং ইউরোপ বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের চাপই এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার পথ তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখতে পারে।