প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্বজনরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি চিকিৎসককে কক্ষ থেকে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও তিনি হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র তিন মাস আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মানুষের সেবা করতে গিয়ে এভাবে হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও প্রশাসনকে দ্রুত খবর দেওয়া হয়। হামলায় শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, চিকিৎসকরা রোগীদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন উসকানিদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম হাসপাতালে গিয়ে আহত চিকিৎসকের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।