ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী রোববার বলেন, “যুদ্ধের শেষ আমাদের হাতেই।” তিনি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহার এবং হামলায় সৃষ্ট সব ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
যুদ্ধ শুরু হয় ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান দ্রুত ইরানের আকাশসীমায় অভিযান চালায় এবং লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে এতে ইসরায়েলে মাত্র ১২ জন নিহত হয়, যা গত বছরের স্বল্পস্থায়ী সংঘাতের তুলনায় কম।
ইরানপন্থি উপসাগরীয় দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করতে সক্ষম হলেও, যুদ্ধের প্রভাব তাদের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিকভাবে এখনও আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে, তবে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে তাদের হাতছাড়া হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চাপের মুখে পড়েছেন এবং প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য অন্য দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ রাজি হয়নি।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানি অরবাখ বলেন, “যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে, কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে কমে আসছে।”
অন্যদিকে লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক পিটার নয়মান বলেন, ইরান খারাপ পরিস্থিতি কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েছে। তিনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের হাতে রয়েছে।
এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে ৮০০-এর বেশি নিহত ও প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিপুল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম নাও হতে পারে।