এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে। মহান আল্লাহ এই রাতের গুরুত্ব বোঝাতে 'আল-কদর' নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল করেছেন।
সৌভাগ্যের এই রাতে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বিশেষ কিছু আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নফল নামাজ ও বিশেষ সালাত
শবে কদরের রাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নফল নামাজ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
তাহাজ্জুদ: শেষ রাতে সেহরির আগে অন্তত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা।
সালাতুত তাসবিহ: সম্ভব হলে এই বিশেষ নামাজটি পড়া, যা গুনাহ মাফের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
আউওয়াবিন ও দুখুলিল মাসজিদ: মাগরিবের পর ৬ রাকাত আউওয়াবিন এবং মসজিদে প্রবেশ করে ২ রাকাত দুখুলিল মাসজিদ নামাজ পড়া।
তাওবা ও হাজতের নামাজ: নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে তাওবার নামাজ এবং বিশেষ কোনো প্রয়োজনে সালাতুল হাজত পড়া যেতে পারে।
২. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত
এই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই কোরআন তিলাওয়াত এই রাতের অন্যতম সেরা আমল। বিশেষ করে নিচের সুরাগুলো তিলাওয়াত করা যেতে পারে:
সুরা কদর, সুরা ইয়াসিন, সুরা আর-রাহমান।
সুরা দুখান, সুরা মুলক, সুরা ওয়াকিয়া।
সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা ত্বহা এবং ৪-কুল (কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস)।
৩. জিকির ও দোয়া-ইস্তেগফার
সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার: ক্ষমার জন্য শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার বারবার পড়া।
দরুদ শরিফ: প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
তাসবিহ পাঠ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর জিকির করা।
৪. কাজা নামাজ আদায়
যাদের জীবনে অনেক নামাজ কাজা হয়েছে, তারা এই বরকতময় রাতে বিগত জীবনের ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার কাজা নামাজগুলো আদায়ের নিয়ত করতে পারেন। হতে পারে মহান আল্লাহ এই রাতের উসিলায় অতীতের সব ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।
৫. দোয়া ও মোনাজাত
নিজের জন্য এবং জীবিত ও মৃত বাবা-মায়ের জন্য প্রাণভরে দোয়া করা।
আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে মোনাজাত করা।
বিশেষ টিপস: রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন— "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি" (হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন)।