তারপরও ভারতে বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই দ্বীপ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার গ্রেট নিকোবরকে ভারত মহাসাগরে অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক তল্লাশি চৌকি কিংবা ঘাঁটিতে পরিণত করার জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে। আর দেশটিতে এই প্রকল্প ঘিরে চলছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক।
মোদি সরকার গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে একটি পরিবহন বন্দর, একটি বেসামরিক-সামরিক বিমানবন্দর, একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জন্য জনপদ গড়ে তোলার পরিকল্পনায় সবুজ সংকেত দিয়েছে।
সরকারের নীলনকশায় প্রকল্পের যৌক্তিকতা হিসেবে সামুদ্রিক বাণিজ্যের অর্থনীতিকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও নয়াদিল্লির বিরোধীদলীয় নেতাদের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ভারত সরকার অবস্থান বদল করেছে। বর্তমানে দেশটির সরকার ভাষ্য পরিবর্তন করে এই পরিকল্পনাকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নয়াদিল্লির কৌশলগত লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেছে।
আর হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এই পরিকল্পনাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। কৌশলগত জলপথের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে এমন এক অবস্থানের গুরুত্ব স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট সংকট। এক্ষেত্রে সেই জলপথটি হলো মালাক্কা প্রণালি; যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য এবং সমুদ্রবাহিত তেল পরিবহন করা হয়।
ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান শেখর সিনহা বলেন, ‘‘এই দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত মূল্য রয়েছে। কারণ এটি একেবারে মালাক্কা প্রণালির মুখে অবস্থিত।’’ তিনি বলেন, আর এটি যদি একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা হয়, তাহলে কেউ আপত্তি করতে পারবে না।
• চীনের বিরুদ্ধে প্রহরী?
ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরে মালাক্কা প্রণালির পশ্চিম প্রবেশপথের কাছে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। এটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী জাহাজ চলাচল রুটের সংলগ্ন, যা উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ এবং চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ পরিবহনে ব্যবহার করা হয়।
সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপ চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপ। তবুও মধ্যপ্রাচ্যকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান জলপথ এটি। আর বিশ্ব বাণিজ্য এই প্রণালির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও চীনের জন্য তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৮০ শতাংশ এবং বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশই এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিক এই অবস্থান মালাক্কা প্রণালির ওপর নজরদারি চালানোর জন্য গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের সম্ভাব্য মূল্যবান প্রহরী করে তুলেছে।
সিনহা বলেন, ‘‘প্রণালিতে আসা-যাওয়া করা সব যানবাহনের ওপর নজর রাখার জন্য এই দ্বীপ চমৎকার এক জায়গা।’’ সমুদ্রের কার্যক্রম শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নয়াদিল্লির সক্ষমতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ভারতকে সামুদ্রিক নজরদারিতে বাড়তি সুবিধা দেবে।
নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার গত কয়েক সপ্তাহে এই দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত মূল্যের কথা ক্রমবর্ধমান হারে স্বীকার করছে। গত মে মাসে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির সরকার বলেছে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ‘একটি কৌশলগত প্রকল্প; যা আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
‘‘প্রকল্পটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বৃদ্ধি, দ্বীপপুঞ্জের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী এবং ওই অঞ্চলে সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য নকশা করা হয়েছে।’’
• একটি মৃত্যুদণ্ড
কিন্তু প্রথম দিকে প্রকল্পটি সেভাবে পরিকল্পিত ছিল না। অন্তত সরকারের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় তো নয়ই। বরং, এটিকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং এমনকি হংকংয়ের গভীর সমুদ্র বন্দর-নির্ভর অর্থনীতির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
পরে দেশটির সরকারের এই পরিকল্পনা দ্রুতই তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে; যার মধ্যে দ্বীপের বাসিন্দারাও রয়েছেন। সেখানকার বাসিন্দারা তখন থেকেই নির্মাণ কাজের জন্য নিজেদের ভূমি ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন এবং সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করেছেন।
নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের শেষ প্রান্তে অবস্থিত গ্রেট নিকোবরে মাত্র কয়েকশ শম্পেনের আবাস রয়েছে। এই শম্পেনরা আধা-যাযাবর শিকারী ও সংগ্রহকারী উপজাতি; যারা ঘন বনের গহীনে বসবাস করেন। এছাড়া সেখানে আরও কয়েক হাজার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল নিকোবরী জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন; যারা এই চমৎকার বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।
এসব আদিবাসী সম্প্রদায় বাইরের জগৎ এবং দ্বীপের বসতি স্থাপনকারী জনসংখ্যা থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন; যারা প্রায় ১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন।
মোদি সরকারের প্রকল্পটি বর্তমানে দ্বীপের ১৬৬ দশমিক ১ বর্গ কিলোমিটার জমিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; যা পুরো দ্বীপের প্রায় ১৬ শতাংশ ভূমির সমান। এই ভূমির অর্ধেকই আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার সঙ্গে মিলে গেছে; যেখানে শম্পেনরা বাস করেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ জন গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখে সতর্ক করে বলেছিলেন, এই প্রকল্পটি ‘শম্পেনদের জন্য একটি মৃত্যুদণ্ড’ হতে যাচ্ছে; যা আন্তর্জাতিক গণহত্যার অপরাধের সমতুল্য।
আর তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে ভারতের পরিবেশমন্ত্রী দেশটির সংসদে বলেছিলেন, প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৬৪ হাজার গাছ কাটা পড়বে। এই উন্নয়ন স্থানীয় মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল নিকোবরী সম্প্রদায়কে বাস্তুচ্যুত এবং আগামী তিন দশকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসতি স্থাপনের পথ তৈরি করবে।
সরকারের এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দ্বীপের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৪ হাজার শতাংশ।
• এক ডুবন্ত সাক্ষী
নিকোবরী সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের ভূমি এই প্রকল্পের অধীনে পর্যটন অঞ্চলের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও এর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ভারত সরকার অবশ্য বলছে, এসব সমালোচনা ভিত্তিহীন এবং প্রকল্পটি দ্বীপ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মডেল হবে।
তবে পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকল্পটি ভারতের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দ্বীপ বাস্তুতন্ত্রের একটিতে ব্যাপক বন উজাড়, উপকূলীয় পরিবর্তন এবং অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গ্রেট নিকোবরের ভঙ্গুর পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরি ‘সিসমিক জোন ৫’-এর মধ্যেও পড়েছে। যা গ্রেট নিকোবরের সব বড় নির্মাণ প্রকল্পকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক মাস আগে দ্বীপটি সফর করে স্থানীয় সমাজকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, সরকার এখানে যা করছে তাকে একটি ‘‘প্রকল্প’’ বলছে... অথচ মানুষের ঘরবাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি উন্নয়নের ভাষার আড়ালে ধ্বংসলীলা।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ‘আমাদের জীবদ্দশায় এই দেশের প্রাকৃতিক ও উপজাতীয় ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি এবং গুরুতর সব অপরাধের একটি’।
তিনি ইন্দিরা পয়েন্ট লাইটহাউসও পরিদর্শন করেন; যা ভারতের ভূখণ্ডের সবচেয়ে দক্ষিণ প্রান্ত এবং তার দাদী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সেই লাইটহাউসটি একসময় সবুজ গাছে ঘেরা থাকলেও বর্তমানে এর কিছু অংশ পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে।
২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামি গ্রেট নিকোবরের দক্ষিণ প্রান্তের ভূমিকে প্রায় ৪ দশমিক ২৫ মিটার (১৪ ফুট) ডুবিয়ে দেয়; যার ফলে ইন্দিরা পয়েন্টের চারপাশের উপকূলরেখার কিছু অংশ প্লাবিত হয়।
সরকার পরিচালিত আন্দামান ও নিকোবর ট্রাইবাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের গবেষণা উপদেষ্টা বোর্ডের সাবেক সদস্য মণীশ চান্ডি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পটি একেবারে ঔপনিবেশিক ধাঁচের।’’
এই দ্বীপপুঞ্জ এবং এর মানুষদের নিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করেছেন চান্ডি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য গ্রেট নিকোবরকে একটি বাণিজ্যিক চৌকি হিসেবে গড়ে তোলা বলে মনে করেন তিনি। চান্ডি বলেন, বাধার কারণেই সরকার এই উদ্যোগকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ‘‘এটি (মোদি সরকারের জাতীয়তাবাদী) প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায়।’’
• নেপথ্যে যুদ্ধকালীন সুবিধা
প্রকল্পের যৌক্তিকতা পাল্টে কৌশলগত সব লক্ষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ২০২০ সালে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শীর্ষ পরিকল্পনা সংস্থা গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়ন উদ্যোগের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার পর থেকে বিশ্বও বদলে গেছে।
দেশটির কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেখিয়ে বলছেন, এই পরিবর্তনের কারণে ভারতকে সর্বদা তৎপর থাকতে হবে। নয়াদিল্লি-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পান্ত বলেন, ‘‘দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতির ধরন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। ভারতের পক্ষে তার কৌশলগত সুবিধাগুলোর ফায়দা তুলতে নিজের ভৌগোলিক অবস্থানের দিকে নতুন করে তাকানোটাই স্বাভাবিক।’’
ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনীর ত্রি-সেবা যৌথ কমান্ড গ্রেট নিকোবর থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩১০ মাইল) দূরে দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী শ্রী বিজয়া পুরমে (যা আগে পোর্ট ব্লেয়ার নামে পরিচিত ছিল) অবস্থিত।
পান্ত বলেন, গ্রেট নিকোবরকে গড়ে তোলা হলে তা কমান্ডকে আরও শক্তিশালী, আরও অপরাজেয় করে তুলবে এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কী ঘটছে তার ওপর নজর রাখার জন্য এই ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করা যাবে।
ইরান কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য যেভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করছে, তাতে ভারতীয় কৌশলগত চিন্তাবিদদের একাংশ ওই ধারণা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভবিষ্যতের কোনও সংঘাতে নয়াদিল্লি মালাক্কা প্রণালিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করতে গ্রেট নিকোবরের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করতে পারে।
সাবেক নৌ কর্মকর্তা সিনহা অবশ্য এমন পরামর্শ হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের। একইভাবে মালাক্কা প্রণালি ইন্দোনেশিয়ার। যাতায়াতের পথটি ইন্দোনেশিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। এবং এই জলসীমার শান্তি প্রথমত ভারতের অর্থনীতির জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা বলেন, নৌ অবরোধ তৈরি করা সহজ, কিন্তু তা বজায় রাখা কঠিন। বিস্ময় প্রকাশ করে সিনহা বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকান: অত বড় একটি নৌবাহিনী যদি একটি সংকীর্ণ জলপথের নিশ্ছিদ্র নৌ অবরোধ বজায় রাখতে না পারে, তাহলে ভারতীয় নৌবাহিনী কীভাবে বিশাল ভারত মহাসাগরকে অবরুদ্ধ করবে?’’
তিনি বলেন, দ্বীপের উন্নয়ন কৌশলগতভাবে ভারতের জন্য সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। মালাক্কায় অগ্রবর্তী অবস্থান ভারত মহাসাগরকে ভারতের কাছে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে
তবে এই প্রকল্পের জন্য গ্রেট নিকোবর এবং ভারতকে যে মূল্য চোকাতে হবে, তা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চান্ডি। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের মূল ফোকাস প্রতিরক্ষা সম্প্রসারণের ওপর নয়। তবে এটি সন্দেহজনক ফলাফল এবং ধ্বংসাত্মক পরিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক প্রস্তাব। যা ভারতের এবং এর প্রতিরক্ষার জন্য একটি দায় হয়ে দাঁড়াবে।’’