রোববার দুপুরে বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত “জনরায় উপেক্ষা নয়—গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনিরের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি তুলনা একদিকে গণভোটে ৭০ শতাংশ সমর্থন, অন্যদিকে নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোটে গঠিত সরকার। তার প্রশ্ন“যারা গণভোটের পক্ষে প্রচারণা করেছে, তারা এখন কীভাবে সেই রায়কে অস্বীকার করে?”তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, গণভোট অস্বীকার করা হলে তা জনমতের প্রতি অসম্মান হবে এবং রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায় “সরকার যেন কোনো অদৃশ্য শক্তির অচলাত্বে আটকে আছে।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে অতীতের সরকারের মতো পরিণতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শুধু সমালোচনা নয়, ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিতও দেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন“সংসদের ভেতরে-বাইরে, সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যদি গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা হয়।”রাজধানীর বায়তুল মুকাররম এলাকায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি মহলের কিছু বক্তব্যকে “অশ্বডিম্ব” বলে উপহাস করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন “যদি এটি অশ্বডিম্ব হয়, তবে এই বিষয়েই গণভোট কেন নেওয়া হলো?” তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বহন করে।
নিজের বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান গণভোটের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ে জনসমর্থন নিয়েছিলেন। তার যুক্তি এক প্রশ্নে যদি ১৯টি বিষয় রাখা যায়, তবে চারটি প্রশ্নে গণভোটে সমস্যা কোথায়? বিএনপির ভোটারদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, তারা কি ৩১ দফা পড়ে বুঝে ভোট দিয়েছেন? যদি তাই হয়, তবে গণভোটের প্রশ্নও তারা বুঝেই ‘হ্যাঁ’ বলেছেন।
তবে শর্তসাপেক্ষ তীব্র সমালোচনার মাঝেও তিনি একটি সমঝোতার বার্তাও দেন। ভালো কাজে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে সেই সহযোগিতা সম্ভব নয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার। এছাড়া বক্তব্য দেন আইনজীবী জোবাইদুর রহমান বাবু, সাকিল আহম্মেদ, আল-আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বগুড়ার এই আলোচনা সভা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে একটি পুরোনো কিন্তু জটিল প্রশ্ন, জনগণের রায় কতটা বাধ্যতামূলক, আর রাজনৈতিক ক্ষমতার বাস্তবতা কতটা নির্ধারক? গণভোট, নির্বাচন, প্রতিশ্রুতি এখন রাজনীতির
মঞ্চে নতুন করে শুরু হয়েছে সংখ্যার লড়াই। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।