শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আয়োজিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কেউ যদি শিক্ষক হন, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন? তার নিজের নৈতিকতার অবস্থানই বা কোথায় থাকবে? এই সংকটের কারণেই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে না।’
অতীতের শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন। তারা শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতেন এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু বর্তমানে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা মানুষকে নীতি-নৈতিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রেও পড়েছে।
সমাজে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই মাদকের প্রসার ঘটছে। সমাজে নৈতিকতার চর্চা শক্তিশালী থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা এত সহজে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ছড়িয়ে দিতে পারত না।
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি কল্পনাও করা যেত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, একজন শিক্ষক যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ না হন, তাহলে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাগজের নৌকা দিয়ে কখনো নদী পার হওয়া যায় না।