বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেনীর সোনাগাজী পৌর চত্বরে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত।
এর আগে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সোনাগাজী বাজারে একটি পদযাত্রায় অংশ নেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা চাঁদাবাজির পরিবর্তন চেয়েছি, একই সঙ্গে চাঁদাবাজেরও পরিবর্তন চেয়েছি। আমরা দুর্নীতির পরিবর্তন চেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসবের শুধু হাতবদল হয়েছে। আগে একটি পক্ষ মাদক ও মামলা বাণিজ্য করত, এখন আরেকটি পক্ষ করছে।”
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের পরিবর্তে মানুষের হাতে হারিকেন আর মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে। এখন আর বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে। জনগণকে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।”
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণ নিয়ে আসুন। এক টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আমরা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকে কঠিন করে তুলতে রাজনীতিতে এসেছি।”
সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি ঘরে ফিরবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সরকারের বোধোদয় হবে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দিল্লির সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি আদায় করা হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “যে চাকরির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সূচিত হয়েছিল, আমার সেই বেকার ভাইদের কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত করতে পারিনি। নতুন সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে না। দলীয় বিবেচনায় চাকরি দেওয়া হবে বলে সার্কুলারগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কিন্তু গত ছয় মাসে এক কোটি দূরে থাক, ১০ লাখ দূরে থাক, একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেননি।”
তিনি বলেন, “আপনারা আগে বলতেন, ঈদের পর আন্দোলন। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেই ঈদ বাংলার জনগণ আর দেখতে পায়নি। বাংলার ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঈদের পরের আন্দোলনের জন্য বসে থাকেনি। তারা নিজেরাই রাস্তায় নেমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ঈদের পর বিশেষ অভিযান হবে। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেটি তিনি বলেননি। রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ গেলেও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান দেখা যায়নি। কোন ঈদের পরে, তা স্পষ্ট না করলে ২৪-এর মতো দেশের ছাত্র-জনতা আবারও রাস্তায় নেমে আসবে, বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ আগামী সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সোনাগাজী উপজেলা সদস্যসচিব সুজা উদ-দৌলাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদ করিম চৌধুরী আমজাদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তারা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহীদ হওয়া ফুলগাজীর ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করেন।
বিকেলে সোনাগাজী উপজেলায় জুলাই শহীদ আব্দুল গনি বোরহানের কবর জিয়ারত, আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এর মাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচির সূচনা হয়। কর্মসূচি শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ দুইজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।