এ সংক্রান্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ চলতি মাসের ৬ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. অহেদুল ইসলাম।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বৃক্ষরোপণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে গত ১৯ জুলাই চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি শুধু বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছের চারার পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করান এবং সেই ছবি শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে আপলোড করেন।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই কাউখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পান। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে একই সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের বিরুদ্ধে চরিত্রহনন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়েছেন একই বিদ্যালয়ের নারী সহকর্মী শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তার।
এই নারী শিক্ষিকা জানান, ‘এ বিষয়ে আজকে ডিপিও স্যার তদন্ত করেছে। দেখি কী হয়, পরে বিস্তারিত জানাব।’
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. অহেদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে গত ১৯ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত কত দিনের জন্য, এর কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া নারী শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।