সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ইশতিয়াকের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পেঁয়াজ বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও জনতার প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে নিহতের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জোহরের নামাজের পর দুপুর ২টায় মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইশতিয়াকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার চাচাতো ভাই মির্জা লোটাস কামাল। জানাজা পরিচালনা করেন নিহতের ছোট ভাই মির্জা আব্দুস সামাদ।
জানাজার আগে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম এবং পৌর বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী মোল্লা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইশতিয়াকের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।
জানাজা শেষে পশ্চিম গোন্দারদিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে ইশতিয়াককে দাফন করা হয়।
এদিকে ইশতিয়াকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম ও ডিএসবির ওসি মোশাররফ হোসেন।
পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম সোমবার বিকেলে বলেন, কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে ডিবি সদস্যরা ইশতিয়াককে আটক করেন। পরিবারের অভিযোগ, আটকের সময় তাকে মারধর করা হয়। পরদিন রোববার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।