ঘটনা ঘটে সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার শেখ ফিলিং স্টেশনে। প্রায় ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা রঙের সরকারি গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক বোতল ও ক্যান নামিয়ে পেট্রোল নিচ্ছেন। প্রথমে তিনটি বোতল নামানো হয়, পরে আরও দুটি বোতল আনা হয়। পাম্পকর্মীরা একটি সাদা ক্যানসহ বিভিন্ন বোতলে পেট্রোল ভরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “সবগুলো কি এসিল্যান্ড স্যারের বোতল?” জবাবে সংশ্লিষ্টরা বলেন, “হ্যাঁ।” প্রতি বোতলে কত লিটার তেল নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পাম্পকর্মীরা জানান, প্রতিটিতে পাঁচ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার দাবি করেছেন, তিনি নিজে একটি বোতলে পাঁচ লিটার পেট্রোল নিয়েছেন।
ভিডিও ধারণের সময় ফিলিং স্টেশনে শতাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল। মোটরসাইকেল চালকদের চাকার ওপর চিহ্ন দিয়ে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল, যাতে কেউ পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে না নিতে পারে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী বিপ্লব বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, তেল নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড তার ক্যামেরায় হাত দিয়েছেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার শামস সাদাত মাহমুদউল্লাহ বলেন, “তেল নেওয়ার সময় আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম। জরুরি প্রয়োজনে একটি বোতলে পাঁচ লিটার পেট্রোল নেওয়া হয়েছে। বোতলে নেওয়ার কারণে বিষয়টি দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে, তবে এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। লাইসেন্স ছাড়া খোলাবাজারে পেট্রোল বিক্রি করাই অবৈধ।”
একাধিক ক্যান দেখা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাকে দেখে অন্যরাও ক্যান নিয়ে এসেছে। তাদের নিষেধ করা হয়েছে।” সংবাদকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অচেনা কেউ হঠাৎ মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিক্রিয়া হয়। পরিচয় না দিয়েই ক্যামেরা ধরায় তাকে ক্যামেরা সরাতে বলেছি।”