গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বাধিক। এই মাসে এখন পর্যন্ত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৪৫জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২০৪জন আক্রান্ত হয়েছেন ফেনী সদরে। এছাড়া দাগনভূঞায় ৪০, সোনাগাজীতে ৩১, ছাগলনাইয়ায় ২১, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জন ব্যক্তির ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ১২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে এক জনসহ মোট ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ও একজন ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ৬, দাগনভূঞা ৪জন, সোনাগাজীতে একজন, ছাগলনাইয়ায় এক ব্যক্তি রয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনী ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ৫৩০টি কিট মজুত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
শহরে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তবে ফেনী পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণ পদ সাহা জানান, পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বাসার আশপাশে জলাবদ্ধ জায়গা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।