সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বাজারস্থ ওই ব্যবসায়ীর নিজস্ব দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে সাথে থাকা ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার সত্বে তিনটি ১০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পের স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী মধ্যম ধলিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী এসব অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বালুয়া চৌমুহনীতে আমি ফার্ণিচার ব্যবসা করি। এর সুবাধে আমার পাশের দোকানদার দেলোয়ার হোসেন টুকুর সাথে আমার নানা ধরনের লেনদেন হয়। গণঅভ্যুত্থানের পর তার সাথে লেনদেন নিয়ে আমাদের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ওই দূরত্বকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবত স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে না পারায় বুধবার রাতে হঠাৎ ২০/২৫ জন আমার দোকানে এসে আমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে চিন্তারপোল এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আমিনুল হকের নেতৃত্বে দলীয় নেতা কর্মীরা আমাকে মারধর শুরু করে। তারা আমার পকেটে থাকা ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এবং আমার কাছে টাকা পাবে দাবি করে ১০০ টাকার ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর করে নেয়। এ বিষয়ে আমি ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমার থেকে জোর করে নেয়া স্টাম্পগুলো উদ্ধারের দাবী জানাই। দোষীদের শাস্তি চাই। আমার দলীয় লোকদের কেন আমি চাঁদা দিতে হবে, তা জানতে চাই।
অভিযুক্ত ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের দলের কর্মী টুকু এবং কুদ্দুসের মাঝে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। আমরা বেশ কিছুদিন যাবৎ তাদের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছিলাম। কুদ্দুসকে অপহরণ করে টাকা চিন্তাই এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল দাস বলেন, ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেওয়া ও টাকা ছিনতাই এর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।