ফেনী কাস্টমসের নিলামে পূর্বের মতই ঘুরেফিরে একটি সিন্ডিকেটের হাতেই পণ্য চলে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পৌর কাউন্সিলর আমির হোসেন বাহারের মালিকানাধীন অয়ন এন্টারপ্রাইজ নামের এ প্রতিষ্ঠানটির দখলে ছিল ফেনী কাস্টসের নিলাম। এ প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় কাগুজ-কলমে আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশগ্রহণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অয়ন এন্টারপ্রাইজকেই সর্বোচ্চ দরদাতা ঘোষণা করা হয়। ঐ সময় প্রতিবারই এ প্রতিষ্ঠানটি দুই ধরনের টেন্ডারে বিজয়ী হয়েছিল। ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পর পৌর যুবদলের সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ফেনী কাস্টসের নিলাম। অভিযোগ রয়েছে, এতে সহযোগিতা করছেন কাস্টমসের গুদাম কর্মকর্তা আবদুর রবসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিলামে সিন্ডিকেট হওয়ার কারণে ন্যায্য মূল্য বা উপযুক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী নিলামের আগে পণ্যের বাজারদর যাচাই-বাছাই করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর কাস্টমস ডিউটি ও চার্জ যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হবে। কোনো পণ্যের প্রথম নিলামে প্রাক্কলিত দরের ৬০ শতাংশ দর পেলে তা বিবেচনায় আনা হয়। অন্যথায় দ্বিতীয় দফা নিলাম আহ্বান করতে হবে। প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয় দফায় বেশি দর পেলে নিলামে ওঠা পণ্য বিক্রি করা যাবে। অন্যথায় আহ্বান করতে হবে তৃতীয় দফা দরপত্র। সর্বশেষ এ দরপত্রে দাম যা উঠবে তাতেই পণ্য দিতে বাধ্য থাকবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আইনের এ ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে অতিতের মতো বর্তমান বাবলু ও তার সহযোগী জেলা যুবদলের সদস্য গিয়াস উদ্দিন খোন্দকারের সিন্ডিকেটও ইচ্ছামতো দামে পণ্য বাগিয়ে নিচ্ছে নিলাম থেকে।
আওয়ামী লীগের আমলের এই অনিয়ম বর্তমানেও চলমান। নিলাম প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই প্রতিষ্ঠান কেন নিলামে বারবার সর্বোচ্চ দরদাতা হচ্ছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বলেন, দর নিয়ে এসব সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে যথাসময়ে অনেক নিলামই সম্পন্ন করা যায় না। এতে জব্দকৃত পন্যের গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমানে বাবলু সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ দরপত্র দাখিল করতে সাহস পান না। নিলাম প্রস্তুতের সঙ্গে সঙ্গেই ওই সিন্ডিকেট সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিলামে অংশগ্রহণ কারীরা দপ্তরে গেলেও তথ্য দিতে রাজি হন না কাস্টমস কর্মকর্তারা। সম্প্রতি সিন্ডিকেটের এক সদস্য নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী কয়েকজনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে নিলামের সংখ্যা কমছে এবং কমছে সরকারের রাজস্ব আদায়।
এ ব্যাপারে জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, বর্তমান বাজার যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে আমিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান কোটেশন জমা দিই। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে কত টাকার দরপত্র দিলে ব্যবসায় লাভবান হবে এবং নিলাম পাব সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখে নিলামে অংশ নিই। সর্বোচ্চ দর দাতা হিসেবে আমি প্রায় সময় নিলাম পাই।
ফেনী কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার অলোক কুমার হাজরা বলেন, কাস্টমস এর নিলামে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এখানে কোনো সিন্ডিকেট বা চক্র আছে কিনা আমার জানা নেই। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ব্যাক্তি সম্পর্কের কারণে নিলামে অংশ গ্রহণ কারী কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পেতে পারে। আমি সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।