বুধবার (১৯ আগস্ট) শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
দুটি বড় প্রকল্প ফেরত
একনেকের সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’ও অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ফলে বিএসসির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তুরাগ নদ সুরক্ষা প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু তুরাগ নদ নয়, তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।
অনুমোদন পাওয়া ১০ প্রকল্প
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ।
১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ।
বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন।
ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা।
গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন।
ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন।
রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।