তিনটি আয়োজক দেশ, ১৬টি ভেন্যু আর ৪৮টি দলের ১০৪টি ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ আসর। আর এই দীর্ঘ যাত্রাতেই চূর্ণ হয়ে গেছে বিগত আসরগুলোর অধিকাংশ পরিসংখ্যান।
পেলে-ম্যারাডোনাদের ছাড়িয়ে গোল উৎসবের নতুন রূপ দেখেছে বিশ্ব। পেছনের সব আসরের গোলের রেকর্ড ভেঙে ৩০৮ গোলের দেখা মিলেছে ২৩তম আসরে। তবে সব রেকর্ড ছাপিয়ে আলোচনার শীর্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে।
১০ গোল করে যেমন দ্বিতীয়বার জিতলেন গোল্ডেন বুট, তেমনি মোট ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার সিংহাসন এখন ফরাসি এই স্ট্রাইকারের দখলে।
ইংলিশদের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ ৭ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন জুড বেলিংহাম। পাশাপাশি এবারই প্রথম একজন মিডফিল্ডারের থেকে একটা আসরে ৭ গোল দেখলো ফুটবল বিশ্ব।
গোলের এই জোয়ারের পেছনে ছিল নিখুঁত পাসের কারিকুরি। শুধু গোল করায় নয়, গোল বানানোতেও ফরাসিরা ছিল অপ্রতিরোধ্য। সাতটি অ্যাসিস্ট করে তালিকার শীর্ষে নাম লিখিয়েছেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে।
১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের করা ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙেছেন ফরাসি এই ফুটবলার। যেখানে দলগতভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডও ফরাসিদের দখলে।
আক্রমণভাগের এই ঝড় সামলাতে গোলপোস্টের নিচে প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষকরা। চ্যাম্পিয়ন স্পেনের উনাই সিমন রেকর্ড সাতটি ক্লিন শিট রেখে জিতে নেন গোল্ডেন গ্লাভস। তবে একক নৈপুণ্যে সবাইকে চমকে দিয়েছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল, যার করা ২৮টি সেভ আসরের সর্বোচ্চ।
দীর্ঘ টুর্নামেন্টে রোমাঞ্চের পাশাপাশি কম ছিল না উত্তাপ ও ফাউলের কঠোর শাস্তি। শেষ ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচসহ পুরো আসরে ফাউল ও ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা ও মিসর। ১৫টি হলুদ কার্ড নিয়ে শৃঙ্খলার দিক থেকে সবচেয়ে বিতর্কিত দল ছিল সদ্য সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যানের এমন বিশাল পাহাড় আর মাঠের অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চ পেছনে ফেলে শেষ হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ। যা নিশ্চিতভাবেই ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে গেল।