জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত কালীগঞ্জের একমাত্র বড় অডিটোরিয়ামটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেঝে দিয়ে অবিরাম পানি ওঠায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফ্লোর এবং সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নষ্ট সিলিং ফ্যান, টিনের ছিদ্র এবং অপরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের মতো নানা সমস্যা। ফলে বিয়ে, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে ভাড়াটিয়ারা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অডিটোরিয়ামের পাশেই থাকা পৌরসভার পানি সরবরাহ পাম্পের একটি পাইপ ফেটে দীর্ঘদিন ধরে পানি ঢুকছে হলরুমে। বিষয়টি শুরু থেকেই অবগত পৌর কর্তৃপক্ষ।
পাম্পচালক নুর ইসলাম জানান, প্রায় ৬-৭ মাস ধরে এ সমস্যা চলছে। তবে সমাধানের বিষয়ে জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির নেতা শফিউদ্দিন বলেন, সম্প্রতি পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে তাকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। “মেঝে দিয়ে পানি উঠছিল, ফ্লোর ভেসে যাচ্ছিল। কাপড় ও পর্দা দিয়ে ঢেকে কোনোভাবে অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কালীগঞ্জে বড় কোনো বিকল্প অডিটোরিয়াম না থাকায় এটি স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। তাই দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রকৌশলী কবির হাসান স্বীকার করেন, সমস্যার মূল কারণ তাদের পানি সরবরাহ লাইনের পাইপ। তবে তার দাবি, অডিটোরিয়ামটি জেলা পরিষদের অধীনে থাকায় সংস্কারের দায়িত্বও তাদের। “আমরা বিষয়টি জানিয়েছি, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে,” বলেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদও একই মত দেন। তিনি বলেন, পাইপটি পৌরসভার হলেও অডিটোরিয়ামের সার্বিক সমস্যার সমাধান জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেই হওয়া উচিত।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন, অডিটোরিয়াম তাদের অধীনে হলেও সমস্যার মূল উৎস পৌরসভার পাইপলাইন। “তারা পাইপ মেরামত না করে দায় আমাদের ওপর চাপাচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতির দায় তাদেরই,” দাবি করেন তিনি।
দুই দপ্তরের এমন দায় এড়ানোর প্রবণতায় দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই অডিটোরিয়ামটি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।