সবার জানা, ২০০৩ সালে এই ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে স্টিভ ওয়াহর অসি বাহিনীর সঙ্গে প্রথম টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ২ ম্যাচের সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের ভেন্যু ছিল কেয়ার্নস। দুটি টেস্টেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছিল ইনিংসে।
প্রথম টেস্টে টিম বাংলাদেশ লড়াই করেছিল তিনদিন। আর কেয়ার্নসে টিম বাংলাদেশ টিকে ছিল চতুর্থ দিনের মাঝামাঝি সময়ের কিছু বেশি। ২৮৯.৫ ওভার খেলা হয়েছিল। এখন দেখার বিষয় এবার কী হয়?
গত ২৩ বছরে অসিদের সঙ্গে দেশের মাটিতে আরও ২টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। দুটিই ২ ম্যাচের সিরিজ। প্রথমটি হয়েছিল ২০০৫-২০০৬ সালে। সেবার বাংলাদেশের মাটিতে ২-০ তে জিতেছিল অসিরা। তবে ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে শেষ সিরিজে বাংলাদেশ ১-১ এ ড্র করে। ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে ২০ রানে জয়ী হয় টাইগাররা। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অসিরা জয়ী হয় ৭ উইকেটে।
তার ৯ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ। সবার চোখ এখন ডারউইনে। কী হয়? নাজমুল হোসেন শান্তর দল এবার কী করবে? ২০১৭-এর মতো এবারও সিরিজ অমীমাংসিত রাখা সম্ভব হবে? নাকি সেই ২০০৩ ও ২০০৫-২০০৬-এর মতো আবারও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হবে টাইগাররা? নাকি ২ টেস্টের কোনো ম্যাচ জিতে সিরিজ অমীমাংসিত রাখা সম্ভব হবে? সেটাই দেখার।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জেতার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা। ভক্তরা ভালো কিছু দেখার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনকোরা তরুণদের কাছে ইনিংস পরাজয় এবং ৫৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হওয়ায় সমর্থকদের সেই আশার বেলুন চুপসে গেছে।
এখন জয় তো বহুদূর, ড্রয়ের চিন্তাও নেই কারও মাথায়। তাই প্রথম টেস্টের আগে অতিবড় টাইগার সমর্থকও চুপ মেরে গেছেন। তিনদিনের ওই গা-গরমের ম্যাচের করুণ পরিণতির পর সম্ভাব্য হারের চিন্তাই বেশি করছেন টাইগার সাপোর্টাররা।
এখন দেখার বিষয় হলো মাঠে টাইগাররা কী করে? কতদিন টিকতে পারে? বাংলাদেশ কি পাঁচদিন, না তিনদিন টিকবে? টেস্ট শুরুর আগে অসি ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্সের কাছেও রাখা হয়েছিল এ প্রশ্ন। তিনি অবশ্য কৌশলে তা এড়িয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ শিবির থেকে সিরিজে জয়-পরাজয় নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি কেউ। বোঝাই যাচ্ছে, আগে ভাগে কিছু বলাকে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবছে বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট।
আগেই জানা, ডারউইনে ২০০৩ সালে টেস্ট ম্যাচটিও হয়েছিল ড্রপ-ইন পিচে। বর্তমানে ভিন্ন পরিচয়ে দলের সঙ্গে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন আর মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছেন সেই টেস্টে। এখন যিনি টাইগারদের ব্যাটিং কোচ, সেই মোহাম্মদ আশরাফুল আর প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ছিলেন ২০০৩-এর টেস্ট সিরিজে টাইগারদের নিয়মিত সদস্য। তারা ড্রপ-ইন পিচে খেলার অভিজ্ঞতা হয়তো দলের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
কদিন আগে মোহাম্মদ আশরাফুল জাগো নিউজকে জানিয়েছেন যে, ড্রপ-ইন পিচ তত দ্রুতগতির আর বাড়তি বাউন্সি হয় না। মাঝারি গতি ও উচ্চতায় বল ব্যাটে আসে। সেটা হলে টাইগার ব্যাটাররা তুলনামূলক স্বস্তিতে খেলতে পারবেন। আর যদি অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ পিচ যেমন হয়, তেমন ফাস্ট ও বাউন্সি হলে হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও কামিন্সকে সামলাতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা।
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের এখনকার প্রাণভোমরা নাহিদ রানার অনুপস্থিতিটাকে খুব বড় করে দেখা হচ্ছে। তবে উইকেট টিপিক্যাল ড্রপ-ইন পিচ হলে নাহিদ রানার অভাব খুব অনুভূত হবে না। বরং তখন টাইগার পেসারদের পাশাপাশি ২ স্পিনার তাইজুল আর মেহেদি হাসান মিরাজ হতে পারেন বড় অস্ত্র। একইভাবে অসি পেসারদের পাশাপাশি অফস্পিনার লায়নও বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারেন সর্বাধিক সমীহ।
ইতিহাস জানাচ্ছে, ২০০৩ সালে ডারউইনের ড্রপ-ইন পিচে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪ বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রাথ (৩/২০), জেসন গিলেসপি (২/২৭), ব্রেট লি (৩/২৩) আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের (২/২১) সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ৯৭ রানেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। একজন টাইগার ব্যাটারও পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটে (ডিক্লেয়ার) তোলা ৪০৭ রানের (২ সেঞ্চুরিয়ান, ডারেন লেহম্যান ১১০ আর স্টিভ ওয়াহ ১০০ নটআউট) জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অসি লেগস্পিনার ম্যাকগিল (৫/৬৫)। তার স্পিন ঘূর্ণির মুখে হাবিবুল বাশার সুমনের (৫৪) পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসটি ছাড়া আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। ১৭৮ রানে দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেলে ইনিংস ও ১৩২ রানে হার মানে সুজনের দল।
এবার সেই ড্রপ-ইন পিচে সাদমান, তানজিদ তামিম, শান্ত, মুমিনুল, মুশফিক, লিটন, মিরাজ, তাইজুল, তাসকিন, হাসান মাহমুদ আর খালেদরা কি নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারবেন? নাকি আবার সেই ব্যর্থতাই থাকবে সঙ্গী হয়ে—সেটাই দেখার; শেষ পর্যন্ত মাঠে কী হয়?