রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের প্রথম লড়াইয়ে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জেসি অ্যালান মার্শের শিষ্যরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন স্টিভেন ইউস্টাকিও। এ বিশ্বকাপে যা তাঁর প্রথম গোল।
বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে বল পজিশনে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে ছিল ঠিকই তবে অন টার্গেট শট, সুযোগ তৈরি কিংবা কর্নারে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল কানাডা। পুরো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলমুখে ১২টি শট নিয়েছে কানাডা। যার মধ্যে সাতটি অন টার্গেটে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্নায়ু ধরে রেখে ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে তারা।
এদিনর ম্যাচ ঘড়ির ২২তম মিনিটে দারুণ সুযোগ হারায় কানাডা! বাঁ প্রান্ত ধরে দ্রুত আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। ওলুয়াসেয়ির আলতো করে বাড়িয়ে দেওয়া পাস খুঁজে নেয় লাড়িয়াকে। তবে বল নিয়ন্ত্রণের আগেই ফাউলের শিকার হন তিনি। ফলে বেশ সুবিধাজনক পজিশনে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় কানাডা। ওস্তাকিও ক্সের ছয় গজের ভেতর এক দর্শনীয় ক্রস বাড়ান, যেখানে সম্পূর্ণ আনমার্কড অবস্থায় ছিলেন কর্নেলিয়াস।
বড়সড় গড়নের এই সেন্টার ব্যাক তার হেডটি ঠিকমতো সংযোগ করতে না পারায় বল মাটিতে ড্রপ খেয়ে সরাসরি গোলকিপার উইলিয়ামসের গ্লাভসে জমা পড়ে। প্রথমার্ধের প্রথম ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ ঠিক আগ মুহূর্তে স্বাগতিকদের সামনে এটি ছিল লিড নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।
৩৬তম মিনিটে আরও একবার রক্ষা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এসময় প্রোটিয়া সমর্থকেরা হয়তো মেক্সিকো ম্যাচের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছিলেন! এমবোকাজি এক মারাত্মক ভুল পাস দিয়ে বসেন সরাসরি কানাডার মিডফিল্ডারদের পায়ে। বল পেয়েই কানাডা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের মাথায় চড়াও হয় এবং কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে তারা। তবে সালাবা শেষ মুহূর্তে সঠিক পাসটি বাড়াতে না পারায় সে যাত্রা বেঁচে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এমবোকাজি।
৪৩তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল নিয়ে রীতিমত তুলকালাম লেগে যায়। মোমবিতোর হেডারে বল জালের দিকেই ছুটছিল। তবে মোদিবা সে বল ক্লিয়ার করেন। বল যখন লাইন ক্রস করছিল তিনি বা দিয়ে বল ক্লিয়ার করে। ফিরতি বল গোলবক্সের ভেতর ড্রপ খেয়ে চলে আসে বুকাননের পায়ে। একদম কাছ থেকে তিনি জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাটি থেকে চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় শরীর ভাসিয়ে দিয়ে নিজের শরীর দিয়ে বলের গতিপথ রুখে দেন গোলকিপার উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে বিরতিতে যায় ম্যাচ।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ ঘড়ির ৬৫তম মিনিটে আবারও বড় বিপদ থেকে বাঁচে দক্ষিণ আফ্রিকা । এবারও নায়ক গোলকিপার উইলিয়ামস। জোনাথন ডেভিডের শট পা বাড়িয়ে রুখে দেন তিনি। তবে এরপরও গোল হতে পারত। এ যাত্রায় ঠেকান এমবোকাজি।
পূর্ণ সময়ে আরও একবার দলকে বিপদমুক্ত করেন উইলিয়ামস। তবে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইর থেকে ধেয়ে আসা একটি শট জাল কাঁপিয়ে দেয়।
ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টিভেন ইউস্টাকিও জাদু দেখান। ডান প্রান্ত ধরে জনস্টন ভেতরে ঢুকে এক মরণপণ ক্রস বাড়ান, যা ক্লিয়ার হয়ে চলে আসে ডি-বক্সের মাথায়। সেখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইউস্টাকিও বুক দিয়ে বলটি রিসিভ করে পোস্টের একদম নিচের কোণায় শট নেন। উইলিয়ামসের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না