দিনের বেলায় গোডাউনে ঝুলত তালা। রাত হলেই বিভিন্ন পার্সেটে করে কুরিয়ারযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো সিগারেট।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে এমনই দুটি গোপন গোডাউনের সন্ধান পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। যেখান থেকে জব্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চালানো অভিযানে জব্দ করা ওই সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনবিআর জানায়, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার দুটি প্রিভেন্টিভ টিম মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায়। শ্যামলীর পিসি কালচার হাউজিংয়ের ১৪০ নম্বর বাড়ি এবং মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার ৩৭/৮ নম্বর বাড়িতে একযোগে প্রবেশ করে গোয়েন্দারা। এ সময় দুটি গোডাউনই তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহযোগিতায় গোপন গোডাউন দুটি শনাক্ত করা হয়। গোডাউন মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় ভবন মালিকের সহযোগিতা নেওয়া হয়। ভবন মালিকের সহায়তায় তালা ভেঙে গোডাউনে প্রবেশ করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
ভ্যাট গোয়েন্দা জানায়, তল্লাশিতে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়। পরে সেগুলো বের করে ইনভেন্টরি করা হয়। একটি গোডাউন থেকে প্যাট্রন ন্যানো ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার শলাকা, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ শলাকা এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা উদ্ধার করা হয়।
অন্য গোডাউন থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে দুটি গোডাউন থেকে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় স্থানীয় লোকজন ও ভবনের দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দা দল জানতে পারে, গোডাউন দুটি আলাদা ঠিকানায় হলেও এর প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। ডিলারশিপ ব্যবসা করার কথা বলে তিনি গোডাউন দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
ভবন মালিকরা সেখানে কী ধরনের পণ্যের ব্যবসা হতো, তা জানতেন না বলে গোয়েন্দা দলকে জানিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় গোডাউন বন্ধ থাকায় কার্যক্রমও তাদের চোখে পড়ত না।
দারোয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ সময় রাতের বেলায় গোডাউনে মালামাল আনা হতো। পরে সেগুলো বিভিন্ন পার্সেটে করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। গোডাউন মালিক সবাইকে বৈধ পণ্যের ব্যবসা করার কথা বলতেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা দল। ফলে কেউ তাকে সন্দেহ করেননি।
এনবিআর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। জব্দ করা সিগারেট অবৈধ হওয়ায় তা নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা সিগারেট পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।