অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ডিভিশন-৬-এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহীতে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাভারের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) একাধিক কাজ ‘ইয়োলো টাস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজীবের সঙ্গে পবিত্র কুমার দাশের ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘জিম ব্যাংক’ প্রকল্পেও প্রতিষ্ঠানটি একাধিক কাজ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মুগদা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত চলছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারি কোয়ার্টারের বিভিন্ন কাজেও নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পবিত্র কুমার দাশের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টিং নিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি অদৃশ্য ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে এবং এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
নিজের শ্যালক মৃত্যুঞ্জয়ের নামে ‘দিপ্র কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ওই ঠিকাদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পবিত্র কুমার দাশকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়। তবে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দুদকের চলমান তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পবিত্র কুমার দাশের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই প্রকৌশলী চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি আবাসন প্রকল্পে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকা উদ্যানের পাশে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এবং গ্রামের বাড়িতেও আধুনিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তার সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাশের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোনে সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।