রবিবার বেঙ্গালুরুতে ১৭ বলের এক অবিশ্বাস্য ইনিংসে ৮টি ছক্কা হাঁকান তিনি। যা চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের মতো স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরাও সহজে ভুলতে পারবেন না।
রবিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে যেন তিনি ঝড় তুললেন, তার অবিশ্বাস্য সব ছক্কায় ম্যাচের গতিপথই পাল্টে দেয়। যা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে বিশাল সংগ্রহ এনে দেয়। পরে সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি চেন্নাই সুপার কিংস। হার মানে ৪৩ রানে।
ডেভিড যখন ক্রিজে নামেন, তখন বেঙ্গালুরু রান তুলছিল ওভারপ্রতি ১০.৭০ হারে। অপর প্রান্তে দারুণ ছন্দে ছিলেন রজত পতিদারও। তাতে সময় নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ পান ডেভিড। প্রথম চার বলে রান না পেলেও ধীরে ধীরে গিয়ার বদলান তিনি।
১৬.২ ওভারে দলের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৭৪। তখন ডেভিডের সংগ্রহ ৬ বলে ৩, আর পতিদার ১৫ বলে ৪০। এরপরই শুরু হয় ডেভিড তাণ্ডব। ১৯ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৩৭! ডেভিডের স্কোর তখন ২৩ বলে ৬৫! এই ১৭ বলেই তিনি হাঁকান ৮টি ছক্কা ও ২টি চার। যার ফলে সম্ভাব্য ২২০ রানের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৫০! তাতে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে সিএসকে। ব্যাট হাতে তারা ১৯.৪ ওভারে থামে ২০৭ রানে।
ম্যাচ শেষে সিএসকের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেছেন, ‘শেষ পাঁচ ওভারে ডেভিডই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৫ ওভার পর্যন্ত আমরা এগিয়ে ছিলাম, এরপর তারা রকেটের মতো ছুটেছে। সেখানেই ম্যাচটা হারি।’
তবে ভাগ্য কিছুটা সহায় না হলে ভিন্ন গল্পও হতে পারতো। ১৮তম ওভারে আংশুল কাম্বোজের ইয়র্কারে বোল্ড হয়েছিলেন ডেভিড। কিন্তু নো-বল হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। পরের ফ্রি-হিটে মারেন ছক্কা, আর এরপর জেমি ওভারটনের ওভার থেকে নেন ৩০ রান (৬, ২, ৪, ৬, ৬, ৬)। ওই ওভারেই মাত্র ২১ বলে পূরণ করেন ফিফটি।
ডেভিড শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৫ বলে ৭০ রানে। তার ৬৮ রানই এসেছে ডেথ ওভারে; যা আইপিএল ইতিহাসে এক ইনিংসে ডেথ ওভারে সর্বোচ্চ। ম্যাচের পর নিজের বিধ্বংসী ইনিংস নিয়ে বলেছেন, ‘সব দিন এমন যায় না। পতিদার অসাধারণ খেলছিল, আমি তার কাছ থেকে স্ট্রাইক নিচ্ছিলাম। দলকে বড় স্কোরে নিয়ে যেতে পেরে দারুণ লাগছে।’
এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পেছনে প্রস্তুতির ভূমিকাও বড় বলে জানান ডেভিড। বিশেষ করে দিনেশ কার্তিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে শাণিত করেছে, ‘আমরা অনুশীলনে অনেক কাজ করি। নিজের মৌলিক জায়গা ঠিক রেখে উন্নতির চেষ্টা করি। আইপিএলে কয়েক বছর খেলার অভিজ্ঞতায় এখন নিজের ওপর চাপও কম দিই।’