রাজন মিয়া উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, উন্নত চাকরি ও ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়।
রাজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। এরপর তাকে রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে রাশিয়ান বাহিনীর হয়ে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় তাকে।
যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানকালে একপর্যায়ে ড্রোনের আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যুদ্ধের ভয়াবহতা, চারপাশে বিস্ফোরণ এবং জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যে চরম আতঙ্কের সময় পার করেন রাজন।
রাজন জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময় টিকটকের মাধ্যমে তার পরিস্থিতির কথা প্রকাশ পেতে থাকে। এসব ভিডিও ও তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরে আসে।
পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা করে অবশেষে বাংলাদেশে ফিরতে সক্ষম হন রাজন।
দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন তিনি। পরিবারের দাবি, তারা কখনোই চাননি রাজন কোনো যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক। কাজের আশায় বিদেশে যাওয়া একজন বাংলাদেশি কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
রাজনের অভিযোগ, বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের পাশাপাশি রাশিয়ার জুলিয়া নামের এক নারীও তাদের রাশিয়ায় নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কাজের কথা বলে বিদেশে নেওয়ার পর কীভাবে তাদের যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হলো, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।
রাজনের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক বাংলাদেশিকে বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের কেউ কেউ রাশিয়ান সেনাবাহিনীর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে পড়ছেন।
এতে জীবন নিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।
রাজনের ফিরে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—বিদেশে চাকরির আশায় যাওয়া একজন বাংলাদেশি নাগরিক কীভাবে একটি দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করে অন্য দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িত দালালচক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজনের পরিবার। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার এবং বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।