ইউরোপের মধ্যম মাত্রার আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বুদাপেস্টের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। পশ্চিম ইউরোপে তীব্র গরমে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তাপপ্রবাহটি পূর্বদিকে সরে যাওয়ায় সোমবার বেলগ্রেড ও বুখারেস্টের তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৮ ও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার বলেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে কঠিন দুটি দিন সামনে আসছে। আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকি। আসুন, আমরা একে অপরের খেয়াল রাখি।
বিবিসি জানিয়েছে, তীব্র গরমে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এসব এলাকার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে কর্তৃপক্ষ দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে জনগণকে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে রোববার জার্মানিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন ব্র্যান্ডেনবার্গের কোশেনে তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ট্রামের রেলপথ বেঁকে গেছে। এতে কয়েকটি শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া জনসমাগমস্থলে তাপের প্রভাব কমাতে বার্লিন পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার পর পশ্চিম ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমতে শুরু করেছে। ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহের কারণে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ৮০০-র বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কারণেই ইউরোপে এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যাপক তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ তাপপ্রবাহের কারণে এক নতুন ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বলছে, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপে এ হার গড়ে প্রায় ১৯ শতাংশ।