নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার এক সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুরের একটি ভ্যান গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে চুরি হয়। এ ঘটনায় দুদুকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রোববার সকালে খবির, সুমন, আশিক, বায়োজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজন দুদুর বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে তারা দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলে, “দুদুকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে দুদুকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার নাকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে আলমডাঙ্গার হাউসপুর এলাকার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা দ্রুত কৌশলে মরদেহ ক্লিনিক থেকে সরিয়ে হাউসপুর বটতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।