সংস্থাটির দাবি, নিয়মিত টহল, নজরদারি ও অভিযান জোরদারের কারণে বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বন্দর কার্যক্রমেও। বেড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও কার্গো হ্যান্ডলিং।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের সমুদ্রপথে সার্বক্ষণিক নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, চোরাচালান ও জাহাজ থেকে অবৈধভাবে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ও গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকায় চোরাচালান ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বহিঃনোঙরে নিয়মিত টহলের বাইরে এক হাজার ৩২০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে বোর্ডিং পরিচালনা করে জলদস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি জাহাজের চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট জাহাজে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে ২৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারীদের আস্থাও বেড়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব পড়েছে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমেও। কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট চার হাজার ২৭৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন টনে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এছাড়া বন্দরের রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তিভিত্তিক জলদস্যুতা দমন সংস্থা রিক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় ১৩টি জলদস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে চারটিতে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
কোস্ট গার্ড বলছে, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভবিষ্যতেও তাদের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।