সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার এই ঘটনা ঘটে আদমদীঘির সান্তাহার এলাকার পৌঁওতা রেলগেটের কাছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পারুল। তবে কর্তব্যরত রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মচারীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রেনটি সান্তাহার ছাড়ার কিছুক্ষণ পর পৌঁওতা রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ ঝাঁপ দেন। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তার দুই পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক ফজলুর রহমান জানান, “চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ফলে তার দুই পা ভেঙেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি এই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার মা হাসপাতালে এসেছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
জানা গেছে, পারুল দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। রোববার রাতে স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে সান্তাহারে আনেন। সেখানে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী ঢাকায় ফিরে যান। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পারুল।
একই রাতে দুই দফা আত্মহত্যার চেষ্টা—প্রথমে প্ল্যাটফর্মে, পরে চলন্ত ট্রেনে ঝাঁপ—এই ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়া এক নারীর সংকটের নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো নজরদারি ও মানসিক সহায়তা পেলে হয়তো এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।