গ্রামগুলো হলো-দিনাজপুরের বেচাগঞ্জের নাফানগর, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম। গ্রাম নির্বাচনের তিনটি বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা, জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং পার্বত্য এলাকা।
জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন আগামীর সময়কে বলেন, অনুকরণের কিছু নেই। কেননা শুধু চীন নয়, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশ এই ভিলেজ করেছে। আমরাও দেশের প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নিলাম। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার মতো হবে। এগুলো গ্রামে বিশেষ কোনো বরাাদ্দ বা প্রকল্প নেওয়া হবে না। সরকারি চলমান সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হবে। একবছর পর মূল্যায়ন করে দেখা হবে গ্রামগুলোর অবস্থা। এখানে কোনো দেশকে নকল বা অনুসরণ করা বললে ভুল হবে।
সূত্র জানায়, এই তিন গ্রামকে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে ধরা হয়েছে। থাকবে না দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে, বেকারত্ব, নদীভাঙনে যেন গ্রাম বিলীন না হয়, বন্যায় সব তলিয়ে না যায়, থাকবে সে ব্যবস্থাও। দেশের তিনটি গ্রাম নিয়ে এমনই পরিকল্পনা সরকারের, যে গ্রামগুলোর সব সমস্যার সমাধান করে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে উদাহরণ হিসেবে। আর এখান থেকেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আলো ছড়াবে পুরো দেশে।
চীনের এসডিজি ভিলেজ: জিইডি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডিজি স্থানীয়করণে চীনে মেরি কি ইঞ্চির আর্থিক সহায়তায় চায়না ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইক্সচেঞ্জ, উইমেন ফেডারেশন ফর ইউনান প্রভিন্স অ্যান্ড ইউনগ্রেন কান্ট্রি গর্ভাসেন্টের যৌথ উদ্যোগে এসডিজি ভিলেজ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেখানে দুটি পর্যায়ে এসডিজি ভিলেজ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০১৭ সাল থেকে প্রথম পর্যায়ে তারা পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে চরম দারিদ্র্য বিলোপের লক্ষ্যে কাজ করেছে। ২০২০ সালে লক্ষ্য অর্জনের পর ২০২০-২৫ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রাম পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন ও শক্তিশালী অর্থনীতির প্রতি জোরারোপ করে। ইউএনডিপি চায়না- জিআই জেন্ডার ইক্যুয়েটি অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন কার্যক্রমের আওতায় নারী, দরিদ্র ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর আওতায় নারীবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম ছিল- যেমন: স্থানীয় নারী সংগঠন, নারী শিল্প দল, নারীদের পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইত্যাদি।
এ ছাড়া নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সুবিধাভোগীর পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কর্মী, পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ পদে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এসডিজি ভিলেজ কার্যক্রমের ফলে ওয়াইপুলা গ্রামে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। ২০১৭ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৮ শতাংশ, যা বর্তমানে শূন্য শতাংশ। ২০১৫ সালে গড় আয় ছিল ৫ হাজার ইউয়ান, ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ১৪ হাজার ২১৮ ইউয়ান। কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও কমিউনিটি নেতৃত্বের মাধ্যমে ৬০৭ জন নারী ক্ষমতায়িত হয়। স্থানীয় কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃজনের ফলে ১২০ জন দীর্ঘমেয়াদী ও ২১০ জন মৌসুমী অভিবাসী গ্রামে ফিরে আসেন। ২০২১ সালে ওয়াইপুলা রুরাল ইকোট্যুরিজম কোঅপারেটিভের মোট আয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ইউয়ান।
বাংলাদেশের তিন গ্রাম: পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্র জানায়, পার্বত্য গ্রাম মিতিঙ্গাছড়ির ছয়টি চ্যালেঞ্জ হলো- ভৌগোলিক দুর্গমতা ও যোগাযোগ সমস্যা, অপ্রতুল মাতৃ, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার তুলনামূলক কম হার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভূমিধস, অতিবৃষ্টি এবং বেকারত্বের উচ্চ হার। এ গ্রামের প্রধান সংকট হলো দুর্গম পাহাড়ি ভৌগোলিক অঞ্চল। নাফানগর সম্পর্কে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করে মডেল গ্রাম বা 'এসডিজি ভিলেজ' হিসেবে রূপান্তরের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তালিকায় এই গ্রামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাফানগরের সমস্যা হলো-দারিদ্র্য প্রবণ এলাকা, নারী-পুরুষের মজুরির অসমতা ও পুরুষদের কমর্ বিমুখতা। এ ছাড়া মৌসুমি ঝড়প্রবণ, মৌসুমি বেকারত্ব, সুপেয় পানির অভাব এবং বাল্য বিবাহ ও স্কুলে ঝড়ে পড়ার হার বেশি। পানখালীর সমস্যঅগুলো হলো-নদীভাঙন ও লবণাক্ততা প্রকট, জলবায়ু ঝুঁকি, সুপেয় পানি ও সেচ ব্যবস্থার সংকট,শিক্ষিত ও মৌসুমি বেকারত্ব।