হরতাল শুরুর পর থেকেই নওয়াপাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরের চিত্র পাল্টে যায়। সকাল থেকে শহরের সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান এই নদী বন্দরে পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা।
হরতাল সমর্থকরা যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করেন তারা। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে যানবাহনগুলো বিকল্প পথ অবলম্বন করে যাতায়াত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ৬ মে বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘জয়েন্ট ট্রেডিং’-এর মালিক এবং ‘আনিস প্লাজা’র স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ ‘আনিস প্লাজা’য় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে ব্যর্থ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
হরতাল আহ্বানকারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খুনি শাহ মাহামুদসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং নৌবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি সরদার জানান, অব্যাহতভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবসায়ীরা তটস্থ। সর্বশেষ সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হত্যার শিকার হয়েছেন। ফলে এ নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। নইলে ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।