আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র ও মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বয়স সংক্রান্ত বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, বাংলার বয়সভিত্তিক দলে খেলা রোহিত যাদবের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বয়সের প্রায় ২৭ মাসের পার্থক্য রয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজের জন্য তিনি বিবেচনায় ছিলেন। রোহিতের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
একই তদন্তে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি পেসার রবি কুমারসহ আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সসংক্রান্ত জালিয়াতি ধরা পড়ে। সিএবির তথ্য অনুযায়ী, রবি কুমারের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে নথিতে উল্লেখ করা বয়সের পার্থক্য ৪০ মাসেরও বেশি।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রবি কুমার। একই বছর বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তাঁর। তবে ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি আর দলে ছিলেন না।
সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবি কুমারের বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত অর্জিত সব ব্যক্তিগত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল করা হয়েছে।
ভারতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে জালিয়াতি ঠেকাতে বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে সংস্থাটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ নীতি চালু করে খেলোয়াড়দের স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স জানানোর সুযোগ দিয়েছিল। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।