বগুড়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরে ৭৯ মিলিমিটার এবং সারাদিনে মোট ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ের এই ভারী বর্ষণে সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যায়। ফলে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের অনেককেই হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
রাতেই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিদর্শনে বের হন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। শুধু গাড়িতে বসে নয়, তিনি নিজেই পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের চিত্র শোনেন।
পরিদর্শনের সময় ধারণ করা তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক নাগরিক প্রশাসকের এই মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোথায় কী কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, “বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়। এটি ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো সংকট। আমি নগরবাসীর কাছে তিন মাস সময় চেয়েছি। সবার সহযোগিতা পেলে এই সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শহরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্যে ভরে আছে। এতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে ড্রেন উপচে রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বগুড়াকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যানজট কমাতে ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশন অবৈধ দখলদার ও হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা যায়। কিন্তু বিকেলের আকস্মিক ভারী বর্ষণে সেই স্বস্তি মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা—যানজটের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যারও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হবে।