এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে চমকের নাম ছিল কেপ ভার্দে। বিশেষভাবে বললে, দেশটির গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পর ফিফার সেরা একাদশ মনোনয়নের তালিকায় উঠে এসেছে কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষকের নাম। শুধু তাই নয়, কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে রেকর্ড পরিমাণ সেভ করার কারণে তাকেও রাখা হয়েছে এই তালিকায়।
বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ৬ জন ফুটবলার রয়েচেন এই তালিকায়। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা থেকে পাঁচজন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন এই সংক্ষিপ্ত তালিকায়। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ- প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে লা রোহা ও আলবিসেলেস্তেদের প্রতিনিধিত্ব।
আর্জেন্টিনা দল ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে। তবু পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচ আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে মনোনয়ন দিয়েছে ফিফা।
গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ। রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মাঝমাঠে আছেন এনজো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনার একমাত্র প্রতিনিধি লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা মেসি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার ওপরে রয়েছেন কেবল ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ৬ জন ফুটবলার রয়েছেন এই তালিকায়। গোলরক্ষক উনাই সিমোন, ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া এবং পেদ্রো পোরো, মিডফিল্ডে রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল এবং ফরোয়ার্ডে মিকেল ওইয়ারজাবাল।
ফিফার প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত তালিকায় কিছু চমকও রয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই নিয়মিত ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তের নাম নেই। বিশেষ করে কুবারসির অনুপস্থিতি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, বার্সেলোনার এই তরুণ ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান (বেস্ট ইয়াং প্লেয়ার) খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন।
এছাড়া মিডফিল্ডারদের তালিকাও বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ ভোটে ৪-৪-২, ৪-৩-৩ এবং ৩-৪-৩—তিন ধরনের ফরমেশন বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লামিনে ইয়ামালের মতো স্বভাবতই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরও মিডফিল্ডার তালিকায় রাখা হয়েছে, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অবস্থানভিত্তিক মনোনীত ফুটবলার
গোলরক্ষক
এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
ভোজিনহা (কেপ ভার্দে)
উনাই সিমোন (স্পেন)
জর্ডান পিকফোর্ড (ইংল্যান্ড)
এলয় রুম (কুরাসাও)
ডিফেন্ডার
লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
নুনো মেন্দেজ (পর্তুগাল)
মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
ভিরগিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস)
গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস (ব্রাজিল)
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (আর্জেন্টিনা)
দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স)
পেদ্রো পোরো (স্পেন)
মিডফিল্ডার
জুদ বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড)
মাইকেল অলিসে (ফ্রান্স)
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)
এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা)
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স)
লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া)
ইসমাইল সাইবারি (মরক্কো)
রদ্রি (স্পেন)
লামিন ইয়ামাল (স্পেন)
ফরোয়ার্ড
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
আরলিং হলান্ড (নরওয়ে)
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)
হুলিয়ান কিনিওনেস (মেক্সিকো)
মিকেল ওইয়ারজাবাল (স্পেন)
এখন ভক্ত-সমর্থকদের ভোটের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা একাদশ। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের একাধিক তারকার পাশাপাশি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য শীর্ষ ফুটবলারদের নিয়েই গড়ে উঠবে এই মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্রিম টিম’।