বিশ্বকাপে অবশ্য আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ফুটবলের মহাযজ্ঞে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা, জয়ের হার অবিশ্বাস্য ৮৭.৫ শতাংশ। গোল করার ক্ষেত্রেও তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী; এই ম্যাচগুলোতে তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৫টি করে মোট ২০টি গোল করেছে। রক্ষণভাগও ছিল অটুট, যেখানে প্রতি ম্যাচে মাত্র ০.৪ গড়ে তারা পুরো ৮ ম্যাচে গোল হজম করেছে মাত্র ৩টি।
আফ্রিকার কোনো দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র হার এসেছে গত আসরে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ততক্ষণে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় কোচ তিতে মূল একাদশের বদলে রিজার্ভ বেঞ্চের ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। সেই ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর চারটায় নিউজার্সি স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল; সেই ম্যাচে রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতোর গোলে ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় পেয়েছিল তারা।
বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্যে ক্যামেরুনের নাম সবার উপরে। বিশ্বকাপে এই পর্যন্ত ক্যামেরুনের বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি তিনবার মুখোমুখি হয়েছে সেলেসাওরা। ২০২২ সালের ওই পরাজয়টির বাইরে ১৯৯৪ সালের আসরে ব্রাজিল ৩-০ গোলে এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ৪-১ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল।
ক্যামেরুন ও মরক্কোর বাইরেও বিশ্বকাপে আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের তালিকা বেশ সমৃদ্ধ। এর মধ্যে ১৯৭৪ সালে জাইরের বিপক্ষে ৩-০, ১৯৮৬ সালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১-০, ২০০৬ সালে ঘানার বিপক্ষে ৩-০ এবং ২০১০ সালে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় উল্লেখযোগ্য।
মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের ইতিহাসে আফ্রিকান কোনো দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র নকআউট পর্বের লড়াইটি ছিল ২০০৬ সালের সেই ঘানার বিপক্ষেই, যেখানে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল ব্রাজিল। তবে অতীত-ইতিহাস সব সময় বর্তমানের উত্তাপকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। পরিসংখ্যানের পাতায় ব্রাজিল যতই আধিপত্য বিস্তার করুক না কেন, মরক্কোর বিপক্ষে এই উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে দুই মহাদেশীয় শক্তির এক নতুন অগ্নিপরীক্ষা।