স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এম আর ইসলাম স্বাধীন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়রের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
বগুড়া সদরের মালতিনগর এলাকার বকশিবাজার সড়কের বাসিন্দা এম আর ইসলাম স্বাধীন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রত্যাশা। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা ও কর ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা কাটাতে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন—সেদিকেই এখন নজর সবার।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে একজন প্রশাসকের দায়িত্ব অনেকটাই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। কারণ তাকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং নাগরিক প্রত্যাশার সমন্বয় ঘটাতে হয়। সেই জায়গায় এম আর ইসলাম স্বাধীনের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করা।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প, পরিচ্ছন্নতা সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নগর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে পারলেই প্রশাসক হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন তিনি।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের দায়িত্ব গ্রহণ এখন শুধু একটি নিয়োগের খবর নয়; এটি নগর পরিচালনায় নতুন প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বার্তা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সূচনা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।