এবারের নির্বাচনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতের জেলা আমির আবিদুর রহমান সোহেল। তৃতীয় প্রার্থী থাকলেও বাস্তবতায় নির্বাচনী মাঠ প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত ধানের শীষ বনাম দাঁড়িপাল্লা। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই এখন পোস্টার, ব্যানার আর মাইকিংয়ে সরব দুই শিবির। অলিগলি, চায়ের দোকান, বাজার—সবখানেই আলোচনা একটাই: “কে জিতবে বগুড়া-৬? বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা তার প্রচারণায় সরাসরি দলীয় প্রধানের জনপ্রিয়তাকে সামনে আনছেন। তার ভাষ্য।
বগুড়ার মানুষ বিপুল ভোটে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছিলেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে ভোট দিতে হবে। তার প্রচারণার মূল সুর এই নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থী নয়, বরং নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ভোট।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ভোটারদের সামনে ভিন্ন বার্তা তুলে ধরছেন। তার বক্তব্য “আবেগে পড়ে ভোট দিয়ে মানুষ হতাশ হয়েছে। এবার তারা সচেতন। ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে তারা দাঁড়িপাল্লাকেই বেছে নেবে। গত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারের পরও তিনি আত্মবিশ্বাসী কারণ এবার প্রতিপক্ষ ভিন্ন, সমীকরণও নতুন।
রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশের বাইরে সাধারণ ভোটারদের ভাবনা কিছুটা আলাদা। অনেকেই বলছেন “দল নয়, এমন একজনকে চাই, যিনি এলাকার জন্য কাজ করবেন।”এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। পুরুষ: ২,২২,৭৯৯, নারী: ২,৩১,২৩৪, তৃতীয় লিঙ্গ: ১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৫০টি যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রই হয়ে উঠতে পারে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক।
প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটাই ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। সেজন্য চলছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ছোট ছোট পথসভা।“যে পক্ষ বেশি ভোটারকে কেন্দ্রে আনতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। উপলক্ষে দিনটিকে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এখন শুধু একটি রাজনৈতিক লড়াই নয় এটি আবেগ, হিসাব, নেতৃত্ব আর জনআস্থার এক জটিল সমীকরণ। ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্ল কোন প্রতীক শেষ হাসি হাসবে, তা জানা যাবে ৯ এপ্রিল। তবে এর আগ পর্যন্ত বগুড়ার রাজনীতি ঘুরপাক খাবে এক প্রশ্নে “ভোট কি আবেগে, নাকি বাস্তবতায়?”