বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেলাগাছি এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির নারী-পুরুষ শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা সেতাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপিও জমা দেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে কার্পেট, মাদুর, পাপোষসহ বিভিন্ন পাটজাত পণ্য উৎপাদন করে আসছেন, যা শতভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় তাদের বেতন অত্যন্ত কম এবং একই ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানের শ্রমিকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য রয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, সেতাবগঞ্জে একই কাজ করে মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা পেলেও রংপুরে একই ধরনের কাজে শ্রমিকরা প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান। এছাড়া নতুন শ্রমিকদের মাসিক বেতন মাত্র ৩ হাজার টাকা, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা ওভারটাইম ভাতা, ন্যায্য মজুরি এবং বৈষম্য দূর করারও দাবি জানান।
কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, বেতন বৃদ্ধির দাবি তুললেই চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা হয়। স্থানীয় শ্রমিকরা আন্দোলন করলে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করানোর কথাও বলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা হারকম কারখানায় গেলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. ইয়াসিন আলী জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কথা বলার মতো কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত নেই এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল হক লাকু কারখানা ত্যাগ করেছেন। পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।