এর আগে মঙ্গলবার বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- নিপুন বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়াসহ পাঁচজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা চার দিন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদীর পানি। পাশাপাশি এই বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় গতকাল রাত ১০টায় পার্শ্ববর্তী পাহাড়ধসে নিপুন বড়ুয়ার পাকা ঘরসহ ৫টি বসতঘর ভেঙে যায়, পাশাপাশি আরও ৩টি ঘরের অধিকাংশ অংশ মাটিতে চাপা পড়ে। তবে ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় সবাই। পরে রাত ১০টার দিকে পাহাড়ধসে হয়ে এদের সবার বাড়ি ভেঙে যায় এবং মাটিচাপা পড়ে।
এদিকে, বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম ও অমিয়াখুম এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ৭০ জন নিরাপদে থানচি সদরে ফিরে এসেছে। এছাড়া অমিয়াখুমে আটকে থাকা আরও ১৮ জন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে থানচির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে গাইডদের একটি দল পদ্মমুখ এলাকায় অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা বান্দরবান জেলা সদরে পৌঁছাতে না পারলেও থানচিতে নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বান্দরবান কেরানিহাট এলাকার সড়কের লাল ব্রিজ এলাকায় পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে রাত দশটার ভিতরে চালু হতেপারে বলে জানা গেছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হিরা মনি বলেন, এই পর্যন্ত বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া ও সুয়ালক এলাকার ৭টি বসতঘর পাহাড়ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। এসব স্থানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়াদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।