আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজার ও মেরুল বাড্ডা পাঁচতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তেলের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি করে বিক্রি হচ্ছে।
মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাজেটের কারণে বাজারে এখনো কোনো প্রভাব দেখিনি। বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতোই আছে। শুধু সয়াবিন তেলের দাম কোম্পানি বাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘তেলের নতুন সরবরাহ বেশি দামে এসেছে। কেন দাম বাড়ানো হয়েছে সেটা আমরা জানি না। কোম্পানি যে দামে দিচ্ছে, সে অনুযায়ী বিক্রি করছি। বাজেটের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।’
অন্যদিকে তেলের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপণ্যের মধ্যে তেল এমন একটি জিনিস, যা প্রতিদিনই লাগে। কয়েক টাকা বাড়লেও মাস শেষে বড় চাপ পড়ে। তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’
একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়লেও তেলের দাম বারবার বাড়ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে এই পণ্যের বাজারে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজেটের প্রভাব বাজারে কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাজেট ঘোষণার পরও ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মাছের বাজারেও আগের দামের ধারাবাহিকতা রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়েনি।