আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
আহতরা হলেন— সুমন দাস (৪৫), হৃদয় হাওলাদার (২৬), হাবিবুল্লাহ শেখ (২৮), মো. ফিরোজ শেখ (৬৫) ও মোতালেব হোসেন (৪৮)। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও প্রধান কৌঁসুলি এম. এম. মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানান, জেলা জজ আদালতের নিচতলায়, যেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেই কচুয়া কোর্টের সামনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ খসে পড়ে। এ সময় সেখানে অবস্থানরত বিচারপ্রার্থীদের ওপর পলেস্তারা এসে পড়ে। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একাধিক স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আদনান হোসেন বলেন, আদালত ভবনের পলেস্তারা খসে আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কারও মাথায়, কারও ঘাড়ে এবং কারও পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে কারও আঘাত গুরুতর নয়। সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও বারবার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটির সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।