সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে কারখানাটির আধুনিকায়ন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর দাবি জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গত ১৮ মাস ধরে আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অবিলম্বে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানাটি চালু করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের শিল্প, কর্মসংস্থান ও কৃষি অর্থনীতিতে আশুগঞ্জ সার কারখানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদন চালু থাকা অবস্থায় কারখানাটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হতো। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি অনিয়মিতভাবে চলেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
তাদের দাবি, কারখানাটিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধন থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কারখানায় উৎপাদন চালু করা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে কারখানাটির পুনঃনামকরণ এবং কারখানার আধুনিকায়ন। পাশাপাশি ‘জিয়া সার কারখানা-২’ নামে দৈনিক ১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতার নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনের দাবিও জানান তারা।
বক্তারা বলেন, দ্রুত তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে কারখানা সচল করা না হলে পর্যায়ক্রমে রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
এ সময় এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।