এক দশক আগেও মূলত হালকা অস্ত্র ও গেরিলা কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকা হুতিরা বর্তমানে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল এবং আত্মঘাতী অ্যাটাক ড্রোনের বিশাল বহর গড়ে তুলেছে।
দক্ষিণ সৌদি আরবের ‘শরুরাহ’ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার, আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আরামকোর জিজান ও আভা তেল শোধনাগারে একই সাথে সফল হামলা চালিয়ে হুতিরা তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক নিশানায় আঘাত হানার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
লোহিত সাগরের অন্যতম কৌশলগত প্রবেশদ্বার ‘বাব-আল মানদেব প্রণালি’ এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর হুতিদের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি বাজারে চাপ: লোহিত সাগরের সমুদ্রপথ ও বন্দরগুলোর ওপর হুতিদের অবরোধ এবং সৌদি আরামকোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কারণে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
শিপিং ও সাপ্লাই চেইন: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত হামলার ঝুঁকিতে শিপিং বীমা মাশুল কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা সামগ্রিক আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর মূল লক্ষ্য হলো তেল-বহির্ভূত অর্থনীতি এবং বিদেশী বিনিয়োগবান্ধব আন্তর্জাতিক অবকাঠামো তৈরি করা।
তবে বেসামরিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারে হুতিদের হামলা রিয়াদের বেসামরিক নিরাপত্তা ও বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রিয়াদ দীর্ঘমেয়াদি ইয়েমেন সংঘাত থেকে বের হতে চাইলেও হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা দেশটিকে এক জটিল ‘নিরাপত্তা দ্বিধাদ্বন্দ্বে’ ফেলেছে।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ইয়েমেনি জনগণের ওপর। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু তাইজ প্রদেশেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন।
প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন শত শত ইয়েমেনি লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকান শিং অঞ্চলের দেশ জিবুতিতে পাড়ি দিচ্ছেন, যা লোহিত সাগরের অপর পারের স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা স্রেফ অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো যদি সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে না পারে, তবে হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র করে তুলবে।