সেদিন রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক নির্মম সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল বাঙালির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ছাত্রসমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে স্বাধীনতার দাবিকে দমন করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চালানো হয় ভয়াবহ হামলা। ছাত্রাবাসগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন, গুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ায়, কিন্তু রক্ষা পায়নি অনেকেই।
সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২৫ মার্চের সেই বর্বরতা বাঙালিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে প্রতিরোধ, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
ইতিহাসবিদদের মতে, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত। এই রাতের ঘটনাই বিশ্ববাসীর সামনে পাকিস্তানি শাসকদের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে।
প্রতি বছর ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেইসব নিরীহ মানুষকে, যারা কালরাত্রির নির্মমতায় প্রাণ হারিয়েছিলেন।