স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রবিবার দাবি করেন, গত ৮ বছরে দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। তবে রিউমর স্ক্যানার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, এই দাবি সঠিক নয়।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছিল যা ২০২১ সাল পর্যন্ত চলেছিল। কর্মসূচির বাইরে থেকেও নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। ফেসবুক ও ওপেন সোর্সে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পোস্টে শিশুদের টিকা দেওয়ার ছবি ও তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ শাখার ২০২১ সালের ২১ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, মহামারির প্রথম সময়ে টিকাদান সেবা ব্যাহত হলেও ২০২০ সালের জুন থেকে বাংলাদেশ রুটিন টিকাদান পরিষেবা পুনরায় চালু করে। ডিসেম্বর ২০২০ থেকে জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত হাম ও রুবেলার গণটিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, টিকা ইপিআই-এর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং সব সময় দেওয়া হয়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, কিছু শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার আগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে টিকাদানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা থাকলেও হয়নি; এপ্রিলে নতুন ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি চার বছর অন্তর ফলোআপ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হামের টিকাদান হার কখনো ৮১ শতাংশের নিচে নেমে যায়নি। ২০২৫ সালের তথ্য অসম্পূর্ণ হলেও, এটি ৫৬.৫ শতাংশ দেখাচ্ছে।
অতএব, গত ৮ বছরে হামের টিকা দেওয়া হয়নি বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি সঠিক নয়। ২০২০-২১ সালেও ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে টিকা দেওয়া হচ্ছে।