জন্মদিনের দিনটি স্মৃতিচারণ, আবেগ আর সহশিল্পীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে।
অনুষ্ঠানের আগে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন উজ্জ্বল। পরে ফুল দিয়ে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এমন সম্মান পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল বলেন, চ্যানেল আই সবসময় শিল্পীদের পরিবারের মতোই পাশে থাকে। তিনি জানান, সফলতা বা ব্যর্থতা যাই হোক, এই প্রতিষ্ঠান শিল্পীদের আন্তরিকভাবে মূল্যায়ন করে।
লাইভ অনুষ্ঠানে সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্ত আসে প্রবীণ অভিনেতা আলমগীর–এর ফোন কল থেকে। হঠাৎ ফোন পেয়ে উজ্জ্বল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দুই তারকার মধ্যে বয়স নিয়ে হাস্যরসপূর্ণ কথোপকথনও হয়, যা দর্শকদেরও আনন্দ দেয়।
আলমগীরকে নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, তিনি শুধু অসাধারণ অভিনেতাই নন, ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত কাছের মানুষ। পর্দায় একসঙ্গে কাজ না হলেও তাদের সম্পর্ক সবসময়ই আন্তরিক ছিল। ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্মগ্রহণ করেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত হন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রয়াত নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘বিনিময়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। অন্ধ চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম সিনেমাতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি।
ক্যারিয়ারে তিনি শাবানা, কবরী, ববিতা, রোজিনা, সুচরিতা ও সুজাতার মতো জনপ্রিয় নায়িকাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নসীব’, ‘দুটি মন দুটি আশা’, ‘অচেনা অতিথি’, ‘বাংলার মুখ’, ‘ঘর সংসার’, ‘অনুরাগ’, ‘কুদরত’, ‘অপরাধ’, ‘পিঞ্জর’ ও ‘দোস্তী’সহ বহু সিনেমা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি মেরিনা আশরাফের স্বামী ছিলেন। ২০২১ সালের অক্টোবরে তার স্ত্রী মারা যান। তাদের দুই সন্তান—মেহবুব আশরাফ ও তানজিনা ফেরদৌস জেবিন।