শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বিদ্যালয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ মার্কেট, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্যের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ধীরে ধীরে সেখানে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন, যার একার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহুবার জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়। সভায় কয়েকজন সদস্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-এর নজরে আনেন। অভিযোগ শোনার পর তিনি দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা মিললে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল। তদন্ত শেষে দখলের প্রমাণ পাওয়ায় আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবশেষে বিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল বিদ্যালয়ের সম্পদ দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগ সরকারি সম্পদ উদ্ধারে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে চেষ্টা করেও সফল হইনি। আজ জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
তবে অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু জমি উদ্ধার নয়—এটি শিবগঞ্জে সরকারি সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে একটি বড় বার্তা। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ের হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।