শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে পাঁচ জেলেকে ধাওয়া করে তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন—টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার লেডা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭) এবং মোহাম্মদ আইয়ুবের ছেলে হারুন।
অন্যদিকে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে আসা দুই জেলে হলেন জালিয়াপাড়া এলাকার নুর আলি ও মো. শরীফ।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি জানান, সকালে পাঁচ জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরে ফেরার পথে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে। এ সময় দুই জেলে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সাঁতার কেটে বাংলাদেশের গোলারচরে পৌঁছান। পরে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বাকি তিন জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আব্দুল গণির অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরা এখন জেলেদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরাকান আর্মির আতঙ্কে জেলেরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন।
পালিয়ে আসা জেলে নুর আলি বলেন, আরাকান আর্মি মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে জেলেদের নির্যাতন করে বলে তারা ভয় পান। এ কারণে জীবন বাজি রেখে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
আরেক জেলে মো. শরীফ জানান, মাছ ধরে ফেরার সময় একসঙ্গে ছয়-সাতটি নৌকাকে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। তাদের নৌকাটি ছোট হওয়ায় স্পিডবোট দিয়ে ধাওয়া করে তিনজনকে ধরে ফেলা হয়।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, জালিয়াপাড়ার তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে।
টেকনাফ ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, তিন জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলেদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।