স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এমন পারফরম্যান্সের পরও কেন জায়গা হলো না তাদের?
উত্তরটা আসলে পারফরম্যান্সের চেয়ে সময়ের হিসাবের সঙ্গে বেশি জড়িত।
এশিয়ান গেমসের নিয়ম অনুযায়ী, মূল আসরের প্রায় তিন মাস আগে ৩০ সদস্যের দল জমা দিতে হয়। সেই সময় রুবেল নির্বাচকদের বিবেচনায় ছিলেন না। পরে টপ-এন্ডে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও নিয়মের বেড়াজালে আটকে গেছে তাঁর এশিয়ান গেমসে খেলার সম্ভাবনা।
বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, “এশিয়ান গেমসে রুবেলকে সুযোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ এশিয়ান গেমসে যে ৩০ জনের দল দিতে হয় আমাদের, সেটা দিতে হয়েছে তিন মাস আগে।”
রুবেল যখন নিজেকে প্রমাণ করে নির্বাচকদের নজরে এলেন, ততক্ষণে এশিয়ান গেমসের দরজা বন্ধ।
বাশার আরও বলেন, “গেমসের কিছু নিয়মকানুন আছে। সেখানকার বাইরে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকে না। এটা গেমসের নিয়ম। যখন আমরা দলটা দিয়েছি তখন আসলে রুবেলের পারফরম্যান্স অতটা উল্লেখযোগ্য ছিল না। বর্তমানে তিনি খুব ভালো করেছেন। মালয়েশিয়ায় ভালো বোলিং করেছেন, টপ-এন্ডেও ভালো বোলিং করেছেন। অবশ্যই তিনি হয়তো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় থাকবেন।”
গল্পটা প্রায় একই সাব্বির রহমানের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে টপ-এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পাওয়ার মতো সময় আর পাননি।
সাব্বিরকে নিয়ে বাশার বলেন, “সাব্বিরকে নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টপ-এন্ডে ভালো ব্যাটিং করেছেন। সাব্বিরের সুযোগটা এখনো আসেনি। সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে, পরিকল্পনায় সে আছে। রুবেলের মতো সেও একেবারে চিন্তাভাবনার বাইরে নয়। সাব্বিরও বাদ পড়েনি। ও অনেকদিন পর দলে কামব্যাক করেছে। ভবিষ্যতে কী হবে দেখা যাক।”
তাহলে কি জাতীয় দলের দরজা খুলতে আরও অপেক্ষা করতে হবে সাব্বিরকে?
বাশারের বক্তব্যে অবশ্য সেই অপেক্ষার মধ্যেই আশার ইঙ্গিত রয়েছে। জাতীয় দলের বাইরে বসিয়ে না রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে নির্বাচকেরা।
বাশার বলেন, “সাব্বিরকে বসিয়ে না রেখে লম্বা সময়ের পরিকল্পনা ভেবে তাকে ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টে সুযোগ দেওয়া। সাব্বিরের সক্ষমতা আছে। সে প্রমাণ করতে পারবে নিজেকে। কন্ডিশন অনুযায়ী দল সিদ্ধান্ত নেবে।”
এশিয়ান গেমসের দরজা তাই রুবেল ও সাব্বির—দুজনের জন্যই আপাতত বন্ধ। তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। বরং টপ-এন্ডে পাওয়া সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
রুবেলের ২৩ উইকেট হয়তো এশিয়ান গেমসের দল বদলাতে পারেনি, সাব্বিরের ব্যাটও পারেনি। তবে দুজনের পারফরম্যান্স যে নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে, সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।