যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধকতা ভাতা বা ডিজেবিলিটি বেনিফিট গ্রহণকারী উচ্চ ও মধ্য আয়ের পরিবারের সংখ্যা গত চার বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বছরে ১ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করা প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার পরিবার 'পার্সোনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পেমেন্ট' বা পিআইপি (PIP) গ্রহণ করছে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল মাত্র ৯৮ হাজার। দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত এই ভাতাটি বর্তমানে রেকর্ড ৩৯ লাখ মানুষ পাচ্ছেন। পিআইপি মূলত আয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় না। তবে ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে এর ব্যবহার এভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কল্যাণ ভাতা খাতের সংস্কার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বর্তমানে পিআইপি খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি দশকের শেষ নাগাদ ৪১ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। কল্যাণ ভাতা খাতের এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে বর্তমান লেবার সরকার তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভাতার খরচ লাগামহীনভাবে বাড়লেও সরকার কার্যকর সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং এডিএইচডি (ADHD)-এর মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে পিআইপি দাবির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা বর্তমানে মোট দাবির সর্বোচ্চ ৩৯ শতাংশ। করদাতাদের স্বার্থ রক্ষাকারী সংগঠন 'ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্স' এবং কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী হেলেন হোয়েটলি এই ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে ভাতার যোগ্যতা ও কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং শর্ত আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির জবাবে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP) জানিয়েছে, পিআইপি কোনো সহজলভ্য ভাতা নয়। আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের পরেই এই সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, চলমান সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে করদাতাদের প্রায় ১.৯ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পিআইপি ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য করে তোলা হবে। এদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশ মনে করছেন, পিআইপি কোনো বেকার ভাতা নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার অতিরিক্ত খরচ সামলাতেই মানুষ এই সহায়তা নেন, তাই শুধু আয়ের অংক দেখে এটি বিচার করা ঠিক হবে না। তবে অন্য একাংশের মতে, প্রকৃত প্রয়োজন আছে এমন মানুষদের সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাতা ব্যবস্থার কোনো অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তাও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।