মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা হাসান ইমাম জানান, এ বছর ২০ রোজার রাত থেকে ১ হাজার ৬৬৪ জন মুসল্লি ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পানামা, লন্ডন ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ৮০ জন বিদেশি মেহমান রয়েছেন। তাঁরা রমজানের শুরু থেকেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসল্লি রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন।
মাওলানা হাসান ইমাম বলেন, বিপুল সংখ্যক মুসল্লির আবাসনের জন্য মাদ্রাসার চারতলা মসজিদটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মুসল্লির সংখ্যা ধারণক্ষমতার বেশি হওয়ায় মসজিদের ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অবস্থান করেই অনেক মুসল্লি ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাচ্ছেন।
মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা নাসিরুল্লাহ বলেন, যশোরের বিত্তবানদের সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। তাঁদের সহযোগিতা ও ইতেকাফে বসা মুসল্লিদের অর্থায়নে সেহেরি, ইফতারসহ খাবারের সব আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ মুসল্লিকে ইতেকাফের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয় ও ভিসা জটিলতার কারণে অধিকাংশ আমন্ত্রিত মুসল্লি আসতে পারেননি। যেসব বিদেশি মেহমান ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা রমজানের শুরু থেকেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন। ইতেকাফ শেষে ঈদের নামাজের পর তাঁরা বিদায় নেবেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী ইতেকাফকারী ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট সবাই স্থানীয় সতীঘাটা ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন।
দেশি ও বিদেশি মুসল্লিদের এই বড় সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তরিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছরই এখানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি মুসল্লি ইতেকাফে বসেন। এটি এলাকার জন্য রহমতস্বরূপ।
প্রসঙ্গত, এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন এতিম শিশু রয়েছে।